প্রতিরোধের লড়াইয়ে কসবা—পাহাড় কাটা, কৃষিজমি ধ্বংস ও মাদকপাচারের বিরুদ্ধে একসাথে সংগ্রাম

ছবি-সংগৃহীত
খ.ম.হারুনুর রশীদ ঢালী:
প্রকৃতি আর সম্ভাবনার এক সমৃদ্ধ জনপদ কসবা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই জনপদকে ঘিরে উদ্বেগও কম নয়—অবৈধ পাহাড় কাটা, কৃষিজমি ধ্বংস এবং মাদকপাচারের মতো অপরাধ একসাথে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তবে আশার কথা, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে এখন গড়ে উঠেছে প্রতিরোধের এক দৃঢ় অবস্থান, যেখানে প্রশাসন ও সচেতন জনগণ একসাথে কাজ করছে।

স্থানীয়দের মতে, একসময় বিচ্ছিন্নভাবে এসব অপরাধ ঘটলেও এখন তা রীতিমতো সংগঠিত রূপ নিয়েছিল। পাহাড় কেটে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করা, কৃষিজমি ভরাট করে ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা কমিয়ে দেওয়া, আর একই সাথে মাদকপাচারের বিস্তার—সব মিলিয়ে কসবার সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো হুমকির মুখে পড়ে।

তবে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো:ছামিউল ইসলাম ও সহকারী কমিশনার ভূমি ও প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান ও কঠোর নজরদারির ফলে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, জরিমানা এবং নিয়মিত অভিযান—এসব পদক্ষেপে অপরাধীদের মাঝে তৈরি হয়েছে ভীতি, আর সাধারণ মানুষের মধ্যে ফিরেছে কিছুটা আস্থা।

এরই মধ্যে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান। ইতিহাসের এই প্রথম তিনি ডিও লেটারের মাধ্যমে নদী ভরাট, পাহাড় কাটা, কৃষিজমি ধ্বংস এবং মাদকপাচারের মতো অপরাধ বন্ধে সরাসরি নির্দেশনা দিয়ে প্রতিরোধে নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন। তার এই উদ্যোগ প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষ করে কৃষিজমি রক্ষায় নেওয়া উদ্যোগগুলো স্থানীয় কৃষকদের মাঝে স্বস্তি এনে দিয়েছে। তারা বলছেন, জমি রক্ষা পেলে শুধু তাদের জীবিকা নয়, পুরো এলাকার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। অন্যদিকে পাহাড় কাটা বন্ধে কঠোর অবস্থান পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

মাদকপাচারের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানও উল্লেখযোগ্য। কসবা থানা অফিসার ইনচার্জ ও এস আই ফারুক হোসেনসহ পুলিশের সদস্যরা তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে এ লড়াইকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে দেয়।

তবে শুধু প্রশাসনিক অভিযানই যথেষ্ট নয়—এমন মতও উঠে এসেছে বিভিন্ন মহল থেকে। দীর্ঘমেয়াদি সফলতার জন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

সচেতন মহলের জোর দাবি—এই ইতিবাচক ধারা যেন কোনোভাবেই মাঝপথে থেমে না যায়। কারণ, প্রতিরোধের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে কসবা একদিন অপরাধমুক্ত, পরিবেশবান্ধব ও সমৃদ্ধ জনপদে পরিণত হতে পারে।

শেষ পর্যন্ত বলা যায়, কসবায় এখন যে লড়াই চলছে, তা শুধু অপরাধ দমনের নয়—এটি টিকে থাকার, ভবিষ্যৎ রক্ষার এবং একটি সুন্দর সমাজ গড়ার লড়াই। এই লড়াইয়ে সবার অংশগ্রহণই হতে পারে চূড়ান্ত সফলতার চাবিকাঠি।

লেখক:সভাপতি,কসবা উপজেলা প্রেসক্লাব,সম্পাদক প্রকাশক অপরাধ পত্র ও কসবা টিভি,মোহনা টেলিভিশন ও দৈনিক ভোরের কাগজ কসবা প্রতিনিধি।
নিজস্ব প্রতিবেদক

