সেলাই মেশিনে বদলাবে জীবনের গল্প—কসবায় স্বাবলম্বিতার পথে নতুন সূচনা

আকলিমা রশীদ ঢালী, কসবা টিভি ডেস্ক:
অভাবের সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাতে কসবায় শুরু হয়েছে এক মানবিক উদ্যোগ। আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সুবিধাবঞ্চিত নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে, যা অনেক পরিবারের জন্য আশার নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার চারগাছ বাজার এলাকায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। আব্দুল মান্নান মতি মেম্বার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কসবা-আখাউড়া উপজেলা উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকার।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কসবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী কাজী ইয়াকুব আলী এবং কসবা উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর শিবলী নোমানী। এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।

মানবিক উদ্যোগ, বদলে দেবে জীবন-অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু দায়িত্ব নয়, এটি একটি মানবিক কর্তব্য। প্রধান অতিথি আতাউর রহমান সরকার বলেন, “এই সেলাই মেশিন শুধু একটি যন্ত্র নয়—এটি একটি পরিবারের স্বপ্ন পূরণের হাতিয়ার। এর মাধ্যমে উপকারভোগীরা নিজেরাই আয় করতে পারবেন, পরিবারে স্বচ্ছলতা আনতে পারবেন।”
স্বপ্ন দেখছেন উপকারভোগীরা-সেলাই মেশিন পেয়ে অনেক নারীই নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। কেউ চান নিজের ছোট একটি টেইলারিং দোকান খুলতে, কেউবা ঘরে বসেই আয়ের পথ তৈরি করতে। তাদের চোখে-মুখে ছিল আনন্দ আর আত্মবিশ্বাসের ছাপ।

এক উপকারভোগী নারী বলেন, “এখন আমি নিজের কাজ করে সংসারে সাহায্য করতে পারবো। এই সহায়তা আমার জীবনে বড় পরিবর্তন আনবে।”
চলবে এই কার্যক্রম-আয়োজকরা জানান, এটি শুধুমাত্র একটি শুরু। পর্যায়ক্রমে কসবা-আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে, যাতে আরও বেশি মানুষ উপকৃত হতে পারেন।
একটি আলোর দিশা-বর্তমান সময়ে যখন কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত, তখন এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা দেয়। এটি শুধু অর্থনৈতিক সহায়তা নয়, বরং আত্মমর্যাদা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার একটি শক্তিশালী মাধ্যম।

কসবায় এই সেলাই মেশিন বিতরণ কার্যক্রম প্রমাণ করে—সামান্য সহায়তাও একজন মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। সঠিক উদ্যোগ আর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে সমাজের চিত্র বদলানো সম্ভব।
নিজস্ব প্রতিবেদক

