অভিযোগ করেও রক্ষা পেলেন না—কসবায় বসত বাড়ি বিরোধে হামলায় কামাল উদ্দিন আহত, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

স্টাফ রিপোর্টার: কসবা টিভি ডেস্ক:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় অভিযোগ (- এসডি নং৮৯৫ তারিখ ১৭/৩/২০২৬ইং) করার পরও হামলার শিকার হওয়ার ঘটনা স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এ ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জিডির কার্যকারিতা এবং দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।



কামাল উদ্দিন ভুইয়া কসবা হাসপাতালে ভর্তি-ছবি-কসবা টিভি
জানা যায়, কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর গ্রামের মৃত নজীব আলী ভূঁইয়ার ছেলে কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া গত ১৭ মার্চ কসবা থানায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডিতে তিনি মো. জামাল উদ্দিন (৫৫) পিতা মৃত নজিব আলী ভূইয়া, মোছাম্মেদ জানুয়ারা বেগম (৫০) স্বামী জামাল উদ্দিন, আলমগীর (৪৮) পিতা মৃত মিয়া চান, মোছাম্মদ শিরিনা বেগম (৪৫) স্বামী মো:আলমগীর, রাকিব মিয়া (২১) পিতা আলমগীর ও মো. জাহাঙ্গীর (৪২) পিতা মৃত মিয়া চান-সহ কয়েকজনকে বিবাদী করেন।

কসবা থানায় অভিযোগ গত ১৭/৩/২০২৬ইং
অভিযোগ অনুযায়ী,অভিযোগ করার মাত্র ২৪ ঘণ্টা পর, ১৮ মার্চ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে বসত বাড়ি ও জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বিবাদীরা কামাল উদ্দিনের জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া ও জিডির বাদী মোছাম্মদ রোমেনা ভুঁইয়া গুরুতর আহত হন।
আহতদের মধ্যে কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বর্তমানে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুরুষ ওয়ার্ডের ১২ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বসত বাড়ি ও জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল এবং বিষয়টি আদালতেও বিচারাধীন রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (দ্রুত বিচার) আদালতে একটি সিআর মামলা (নং-৩১৬/২৫, তারিখ: ১৫/০৭/২০২৫) দায়ের করেন
এ বিষয়ে জানা যায়, কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া পূর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (দ্রুত বিচার) আদালতে একটি সিআর মামলা (নং-৩১৬/২৫, তারিখ: ১৫/০৭/২০২৫) দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে জেলা গোয়েন্দা শাখা অভিযোগের সত্যতা পায় এবং সাব-ইন্সপেক্টর মো. আনিসুজ্জামান আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
ভুক্তভোগী কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া অভিযোগ করে বলেন, “আমি আগেই জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করেছিলাম। তারপরও কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকায় আজ আমি হামলার শিকার হলাম। আমি সুষ্ঠু বিচার এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার চাই।”

সাব-ইন্সপেক্টর মো. আনিসুজ্জামান আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
এ ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহল মনে করছেন, জিডি করার পর ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে দ্রুত পুলিশি নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। তা না হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
আইন অনুযায়ী, অভিযোগ কোনো অপরাধের মামলা না হলেও সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে পুলিশকে অবহিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে—অভিযোগ করার পর ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে কি না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত, স্থানীয় টহল বৃদ্ধি এবং বিরোধপূর্ণ এলাকায় সমঝোতা উদ্যোগ জোরদার করা প্রয়োজন।
কসবার এই ঘটনা কেবল একটি বসত বাড়ি ও জমি বিরোধের সীমায় আবদ্ধ নয়; এটি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি আস্থার প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে। অভিযোগ করার পরও যদি ভুক্তভোগী হামলার শিকার হন, তবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। তাই দ্রুত তদন্ত, জড়িতদের গ্রেফতার এবং দৃশ্যমান আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য।
নিজস্ব প্রতিবেদক

