লিয়াকত মাসুদের ফেসবুক পোস্টে সাংবাদিক সমাজে ক্ষোভ: “নৈতিকতার কথা বলে অপমানের সুর”অভিযোগ সহকর্মীদের

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের নিয়ে অভিজ্ঞ সাংবাদিক লিয়াকত মাসুদের সাম্প্রতিক একটি পোস্টকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। তার লেখা বক্তব্য অনেকের কাছে ‘সততার বার্তা’ মনে হলেও, সাংবাদিক মহলের একাংশ এটিকে মনে করছেন “অযথা আক্রমণাত্মক ও অপমানজনক”।

পোস্টের মূল বক্তব্য:লিয়াকত মাসুদ তার ফেসবুক পেজে লেখেন—“৫ তারিখের পর যারা সাংবাদিকতায় এসে নিজেদের বড় সাংবাদিক ভাবছেন, তাদের জন্য ছোট বার্তা—

মাইকে কথা বলা বা প্রেস কার্ড পাওয়া মানেই সাংবাদিকতা নয়। মানুষের আস্থা অর্জন, সত্য তুলে ধরা এবং নিরপেক্ষ থাকা—এই জায়গাতেই সাংবাদিকতার মর্যাদা। নিজেকে বড় ভাবলে নয়, কাজের মধ্য দিয়েই বড় হতে হয়।”

এই লেখাটি প্রকাশের পরই সাংবাদিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কেউ এটিকে নৈতিকতার স্মারক হিসেবে দেখেছেন, আবার কেউ মনে করছেন—এই মন্তব্যে সাংবাদিক সমাজের সম্মানহানি ঘটেছে।

প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ:ফেসবুকেই প্রথমে প্রতিক্রিয়া জানান স্থানীয় উপস্থাপক Presenter Faysal Bhai, যিনি মন্তব্যে লিখেছেন—“মাসুদ ভাই একজন ধর্মশীল ও দায়িত্ববান মানুষ। ওনার কাছ থেকে জুনিয়র সাংবাদিকরা শিখবে, তবে ওনার এমন পোস্ট সত্যি আক্রমণাত্মক ও কসবা গণমাধ্যম অঙ্গনে উদ্বেগজনক।”

তার মন্তব্য থেকেই বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। অনেক সাংবাদিক মনে করছেন, ‘৫ তারিখের পর যারা সাংবাদিকতায় এসেছেন’—এই বাক্যটি দিয়ে তিনি নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের হেয় করেছেন। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন—একজন সিনিয়র সাংবাদিক হিসেবে এমন বক্তব্য দেওয়া কি পেশাগত নৈতিকতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ?

অন্যদিকে, কিছু সাংবাদিক লিয়াকত মাসুদের পক্ষ নিয়ে বলছেন, তিনি কাউকে অপমান করেননি, বরং সাংবাদিকতার মূল মূল্যবোধের দিকেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাদের মতে, “পোস্টটি আত্মসমালোচনার আহ্বান, যা পেশাটিকে আরো শক্তিশালী করতে পারে।”

বিতর্কের পেছনের প্রেক্ষাপট:সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় পর্যায়ে সাংবাদিকতার মান, নৈতিকতা, ও প্রশিক্ষণ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে ‘প্রেস কার্ড’ হাতে পেলেই নিজেকে সাংবাদিক দাবি করছেন—এই বাস্তবতা থেকেই হয়তো লিয়াকত মাসুদ এমন পোস্ট দিতে চেয়েছেন। তবে তার ভাষা অনেকের কাছে আক্রমণাত্মক মনে হয়েছে।

গণমাধ্যম পেশা এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি ও নৈতিকতা রক্ষাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একজন সিনিয়র সাংবাদিকের বক্তব্য যদি নবীনদের অনুপ্রাণিত করার বদলে বিভাজন সৃষ্টি করে, তাহলে সেটি সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেয় না।

লিয়াকত মাসুদের পোস্ট সাংবাদিক সমাজে এক গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের সূচনা করেছে— সাংবাদিকতা কি শুধুই অভিজ্ঞতার বিষয়, নাকি মনন, সততা ও সহযোগিতার সমন্বয়?
এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজাই এখন সময়ের দাবি।

সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য ছাড়া এখন বিকল্প নেই। আমরা এমনি ভাবে একই পেশার লোক হয়ে কাউকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্যটি সঠিক হয়নি বলে অনেকেই জানান দিয়েছেন। যদি সাংবাদিক না হতো তাহলে কি ভাবে কার্ড পেয়েছেন বা তাকে যিনি কার্ড দিয়েছেন তাকে বলা উচিত নয় কি?

আমার এক কথা যে যে প্লাটফর্মে থাকেন সমস্যা নেই সময় থাকতে একতা ও ঐক্য গড়ে তুলে পেশার মান সম্মান রক্ষায় এগিয়ে চলি। নতুনদেরকে পথা চলার জন্য আমরা সাহস দিয়ে বিধিমোতাবেক সংবাদ প্রচারে সহযোগিতা করার অঙিকার করি। আমরাও একদিন নতুন ছিলাম। তবে আপনার পোষ্টের বিরোধীতা করছি না। আপনি সিনিয়র তাই আপনার পোষ্ট নিয়ে দুই কলম লেখতে চেষ্টা করলাম।

সংবাদটি শুধু একটি পোস্ট নয়, বরং আমাদের সাংবাদিক সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার প্রয়োজনীয়তার প্রতিফলন।

–খ.ম.হারুনুর রশীদ ঢালী,সভাপতি ,কসবা উপজেলা প্রেসক্লাব ও সম্পাদক প্রকাশক- অপরাধ পত্র,।তারিথ ০২-১১-২০২৫ইং

নিজস্ব প্রতিবেদক

