বিতর্ক নয়, পেশার প্রতি দায়বদ্ধতাই সাংবাদিকতার আসল শক্তি

সত্যবাক..
সমাজে নানা মত, পথ ও অবস্থান থাকতেই পারে। মতের ভিন্নতা থেকে কখনো কখনো বিতর্কও জন্ম নেয়। কিন্তু একজন পেশাদার মানুষের কাছে বিতর্কের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে তার দায়িত্ববোধ ও পেশার প্রতি অটল নিষ্ঠা। কারণ সত্যিকারের পেশাজীবী জানেন—ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বা সাময়িক আলোচনার চেয়ে কাজের সততা ও দায়িত্বই শেষ পর্যন্ত মানুষকে সম্মানিত করে।

সাংবাদিকতা এমন একটি মহান পেশা, যেখানে সত্য বলা, সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরা এবং মানুষের কণ্ঠস্বর পৌঁছে দেওয়া সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। এই পেশায় টিকে থাকতে হলে অনেক সময় চাপ, সমালোচনা কিংবা বিতর্কের মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু যারা আদর্শে অটল থাকেন, তারা জানেন—পেশা থেকে সরে না গেলে কাউকেই তাদের সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা নেই।

একজন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার নৈতিক অবস্থান ও পেশাগত সততা। ব্যক্তি স্বার্থ, ক্ষমতার প্রভাব কিংবা সাময়িক লাভের কাছে মাথা নত না করে যে সাংবাদিক নিজের আদর্শে দৃঢ় থাকেন, তার পথ হয়তো সহজ নয়, কিন্তু সম্মানের। সময়ের পরীক্ষায় তারাই টিকে থাকেন, যারা সত্য ও দায়িত্বকে সামনে রেখে কাজ করে যান।

জীবনের নানা পথ পেরিয়ে একজন মানুষ যখন নিজের পেশাগত অবস্থানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন, তখন সেটি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি এক ধরনের আত্মিক তৃপ্তিও। অনেক ঝড়ঝাপটার মধ্যেও যদি একজন মানুষ আল্লাহর রহমতে তার কর্মক্ষেত্রে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন, সেটি নিঃসন্দেহে কৃতজ্ঞতার বিষয়।

তবে পেশাগত জীবনের আরেকটি বড় সৌন্দর্য হলো সহমর্মিতা ও সহাবস্থান। সাংবাদিকতা কোনো ব্যক্তিগত লড়াই নয়; এটি সমাজের জন্য সম্মিলিত দায়িত্ব। তাই সহকর্মী, পাঠক এবং সমাজের সকল মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে পেশাগত দায়িত্ব পালন করাই একজন পরিপক্ব সাংবাদিকের বৈশিষ্ট্য।

শেষ পর্যন্ত একজন পেশাজীবীর লক্ষ্য হওয়া উচিত—নিজের আদর্শ অটুট রেখে দায়িত্ব পালন করা এবং সম্মানের সঙ্গে বিদায় নেওয়া। কারণ পদ বা অবস্থান চিরস্থায়ী নয়, কিন্তু সততা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার স্মৃতি মানুষের মনে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে। সেই স্মৃতিই একজন সাংবাদিকের প্রকৃত অর্জন।
লেখক-সত্যবাক (ছন্দ নাম),কসবা টিভি নিউজ ডেস্ক:

নিজস্ব প্রতিবেদক

