কসবায় জ্বালানি তেলে অতিরিক্ত দাম—প্রশাসনের অভিযানে জরিমানা, সতর্ক বার্তা ব্যবসায়ীদের

ছবি-সংগৃহীত
স্টাফ রিপোর্টার :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মূল্যমান নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। ২৭ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে পরিচালিত একাধিক অভিযানে উঠে এসেছে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পেট্রোল, অক্টেন ও ডিজেল বিক্রির অভিযোগ, যা ভোক্তাদের স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

অভিযানের অংশ হিসেবে মেসার্স ড্রাইভার ভিউ ফিলিং স্টেশন, কুটি চৌমুহনী, বায়েক চৌমুহনী এবং নোয়াগাঁও মোড় এলাকায় তদারকি করা হয়। এ সময় বায়েক চৌমুহনীর ফুল মিয়া মেম্বারের দোকানে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে জ্বালানি বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়। এ অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানজিল কবির ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

অন্যদিকে নোয়াগাঁও মোড়ে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে পেট্রোল ও ডিজেল বিক্রির দায়ে শাহ আলম (৬২) নামের এক ব্যক্তিকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছামিউল ইসলাম।

প্রশাসনের এই অভিযান শুধু তাৎক্ষণিক শাস্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি সতর্কবার্তাও বয়ে আনে—ব্যবসায়িক অনিয়ম ও অতিরিক্ত মুনাফার চেষ্টা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। জ্বালানি তেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এ ধরনের অনিয়ম সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলে, যার ফলে পরিবহন খরচ থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের বাজারেও অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।

সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের নিয়মিত অভিযান বাজার ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও উচিত নৈতিকতা বজায় রেখে সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি করা, যাতে ভোক্তারা প্রতারণার শিকার না হন।

কসবায় পরিচালিত এই অভিযান প্রমাণ করে, প্রশাসন ভোক্তা অধিকার রক্ষায় সক্রিয় রয়েছে। তবে টেকসই সমাধানের জন্য প্রয়োজন ব্যবসায়ীদের স্বচ্ছতা, নিয়ম মেনে চলার মানসিকতা এবং ভোক্তাদের সচেতনতা। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই একটি সুষ্ঠু ও ন্যায়ভিত্তিক বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

নিজস্ব প্রতিবেদক

