কসবায় এক দিনে দুই অভিযানে ১৩৫ পিস ইয়াবা ও ১৭ কেজি গাঁজাসহ ৩ মাদককারবারী গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার,কসবা টিভি ডেস্ক:
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা—সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে জোরালো বার্তা কসবা থানা অফিসার ইনচার্জ নাজনীন সুলতানা।

মাদকবিরোধী অভিযানে আবারও সফলতা দেখিয়েছে কসবা থানা পুলিশ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের কৈখলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৭ কেজি গাঁজাসহ দুইজন মাদককারবারি ও কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ফটকের পশ্চিম পাশে কসবা-নয়নপুর সড়ক থেকে এক ব্যক্তিকে ১৩৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ একজন সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২৯ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কসবা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে তার সঙ্গে এএসআই হেলাল উদ্দিন, এএসআই মোহাম্মদ কামরুল হাসানসহ সঙ্গীয় ফোর্স অংশগ্রহণ করেন।

অভিযান চলাকালে কসবা থানাধীন বায়েক ইউনিয়নের কৈখলা গ্রামের তাহের ফকিরের মাজার সংলগ্ন ব্রিজের উত্তর পাশে কৈখলা-গৌরাঙ্গরা সড়কে সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেহ তল্লাশি ও দখল থেকে ১৭ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার কেউন্দা এলাকার মোঃ জয়নাল আবেদীন (সবুজ) এবং মাদারীপুর সদর উপজেলার ছিলারচর এলাকার বাবুল খা (বাবুল)। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

অপরদিকে, একই দিনে বিকাল আনুমানিক ৫টা ১৫ মিনিটে কসবা থানার এসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ ফারুক হোসেন সঙ্গীয় এএসআই (নিরস্ত্র) মোঃ আছহাব উদ্দীন ও অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় কসবা পৌরসভার আড়াইবাড়ী এলাকায় কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ফটকের পশ্চিম পাশে কসবা-নয়নপুর সড়ক থেকে আঃ আলীম (৬০) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তার দখল থেকে ১৩৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, উদ্ধারকৃত গাঁজা জব্দ তালিকা অনুযায়ী আইনগত প্রক্রিয়ায় জব্দ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় নিয়মিত পৃথক দুইটি মামলা দায়েরের হয়েছে।

কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ নাজনীন সুলতানা বলেন, “মাদক সমাজের জন্য মারাত্মক হুমকি। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকবিরোধী এমন ধারাবাহিক অভিযান শুধু আইন প্রয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা ও তথ্য প্রদান এ ধরনের অভিযানে সাফল্য এনে দেয়।

মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি। অন্যথায় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ ধ্বংসের পথে ধাবিত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।
নিজস্ব প্রতিবেদক

