কসবা সীমান্তে মাদক ও শাড়ি পাচারে তৎপর চোরাকারবারি চক্র: উদ্বেগে সাধারণ মানুষ

কসবা টিভি ডেস্ক:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা সীমান্ত এলাকা জুড়ে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে মাদক ও শাড়ি পাচারকারী চোরাকারবারি চক্র। কসবা সদর, কসবা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা,কালিকাপুর,তারাপুর, চকবস্তা, গংগানগর, চাটুয়াখলা ও জয়নগরসহ বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে এসব অবৈধ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
আজ শনিবার (২৬ এপ্রিল) সকালে কসবা রেলওয়ে স্টেশনের উত্তরে অভিযান চালিয়ে কসবা বিজিবি বিপুল পরিমাণ শাড়ির বস্তা জব্দ করে। জব্দকৃত এসব মালামাল স্থানীয় সংঘবদ্ধ চোরাচালানি সিন্ডিকেটের বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই দিনে ১০নং বায়েক ইউনিয়নের চারুয়া মধ্যপাড়া এলাকায় বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় হাজী সোলেমানের বাড়ির উত্তর পাশের ইটের সড়ক থেকে মো. জামশেদ ওরফে জমসেদ (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। বিজিবি ও পুলিশের তদন্তের সার্থেস্বার্থে নামের তালিকা প্রকাশ করা গেল না তবে আগামীতে নামসহ মামলার তালিকা প্রশাশ করা হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে মাদক পাচারকারীরা আগের চেয়ে আরও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। একটি প্রভাবশালী মহল এই চোরাকারবারি সিন্ডিকেটকে নীরবে সহায়তা দিচ্ছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র দাবি করেছে। কসবা সদরের কয়েকজন চিহ্নিত চোরাকারবারীর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা থাকলেও তারা এখনো সক্রিয় রয়েছে বলেও জানা যায়।
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্যের কারণে অনেকেই স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে ভয় পাচ্ছেন। ফলে এলাকায় উদ্বেগ ও অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, যা স্থানীয় সচেতন মহলকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সীমান্ত এলাকায় টেকসইভাবে এই সমস্যা সমাধানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ ও তথ্য সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে চোরাচালান সিন্ডিকেটের পেছনের প্রভাবশালী মহলকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা না গেলে এ সমস্যা দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, মাদক ও চোরাচালানমুক্ত কসবা গড়তে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং জনসচেতনতা—এই দুইয়ের সমন্বয়েই কেবল এ অবৈধ কর্মকাণ্ড রোধ করা সম্ভব।
নিজস্ব প্রতিবেদক

