ন্যায্যমূল্যের নিশ্চয়তায় কসবায় মোবাইল কোর্ট—গ্যাস বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে দৃশ্যমান উদ্যোগ

ছবি-সংগৃহীত
আকলিমা রশীদ ঢালী:
প্রিয় পাঠক,
সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, স্থানীয় প্রশাসনের নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ফলে জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আইন অমান্যের পরিণতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি অবগত হচ্ছেন, ফলে ছোট-বড় নানা অনিয়ম থেকেও তারা বিরত থাকার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে এসব অভিযানের মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিকভাবে চিহ্নিত ও আটক করা সম্ভব হচ্ছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য উপকরণগুলোর মধ্যে এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস এখন শীর্ষে। কিন্তু এই প্রয়োজনীয় পণ্যটি যখন নির্ধারিত মূল্যের বাইরে বিক্রি হয়, তখন তা শুধু ভোক্তার পকেটেই চাপ ফেলে না—বরং বাজারব্যবস্থার ওপরও আস্থা নষ্ট করে। এমন প্রেক্ষাপটে কসবা উপজেলায় পরিচালিত সাম্প্রতিক মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

গতকাল, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের চারগাছ বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দেখা যায়, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে—যা সরাসরি ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

এই অপরাধে “আল আমিন ট্রেডার্স”-কে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযানটি পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তানজিল কবির। তার নেতৃত্বে পরিচালিত এই কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসনের দৃঢ় অবস্থান স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এলপিজি গ্যাসের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে নিয়মিত বাজার তদারকি ও কঠোর আইন প্রয়োগের বিকল্প নেই। এই ধরনের অভিযান একদিকে যেমন অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য সতর্কবার্তা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির নিঃশ্বাস।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই কসবা উপজেলার বিভিন্ন বাজারসহ চারগাছ বাজারে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ ছিল। মোবাইল কোর্টের এই উদ্যোগে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।

কসবা উপজেলা প্রশাসনের ধারাবাহিক এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে সমন্বিত প্রচেষ্টা। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো:ছামিউল ইসলাম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনগণের স্বার্থে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আসছেন। স্থানীয়দের মতে, এই কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর হচ্ছে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং সরকারি দলের নেতৃবৃন্দের সহযোগিতার কারণে, যা প্রশাসনকে জনস্বার্থে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করছে। এই সব প্রচারে স্থানীয় মিডিয়ার ভূমিকাও কম নয়।

সার্বিকভাবে বলা যায়, কসবায় পরিচালিত এই মোবাইল কোর্ট শুধু একটি জরিমানা কার্যক্রম নয়—এটি ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভোক্তা অধিকার রক্ষা ও বাজারে স্বচ্ছতা আনতে এ ধরনের উদ্যোগই পারে একটি সুস্থ ও ন্যায়ভিত্তিক বাণিজ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে।
লেখক :ডিগ্রীতে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থী,চ্যানেল ২৬,নিউজ প্রেজেন্টার কসবা টিভি।
নিজস্ব প্রতিবেদক

