হোসেনপুরে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে চাতল বিলের ধান, দুশ্চিন্তায় চাষিরা

হোসেনপুর,কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার আড়াইবাড়িয়া এলাকার চাতল বিলে টানা বৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে বিপুল পরিমাণ পাকা ধান তলিয়ে গেছে। এতে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে চরম হতাশা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে বিলের পানি দ্রুত বেড়ে গেছে। ফলে কাটার উপযোগী হয়ে ওঠা ধান পানির নিচে ডুবে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে পানির মধ্যেই ধান কাটার চেষ্টা করছেন, তবে এতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং ফলনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
মধ্য আড়াইবাড়িয়া গ্রামের কৃষক ইশতিয়াক আহমেদ অমিত জানান, তার প্রায় দুই বিঘা জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, “পানি না কমলে সব ধান নষ্ট হয়ে যাবে।”
একই গ্রামের কৃষক আফিরুদ্দীন মোল্লা বলেন, ধান কাটার সময় হয়ে গেলেও শ্রমিক সংকটের কারণে কাজ এগোচ্ছে না। “পানির মধ্যে শ্রমিকরা কাজ করতে চায় না, তাই ধান খেতেই পড়ে আছে।
”আরেক কৃষক বারিক মোল্লা জানান, যে ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে সেটিও ঠিকভাবে শুকানো যাচ্ছে না। এতে বাজারে ধানের দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, চাতল বিলে অবৈধ বাঁধ দেয়ায় পানি অপসারিত হতে সময় লাগছে। এতে একরের পর একর ধানি জমি তলিয়ে গেছে তারা চরম বেকায়দায় আছেন। এর ওপর শ্রমিক সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পর্যাপ্ত শ্রমিক না পাওয়ায় অনেক জমির ধান সময়মতো কাটা যাচ্ছে না, ফলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে।
হোসেনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মহসিন বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে নিচু জমিগুলোতে পানি জমে ধান তলিয়ে গেছে। উপজেলায় এবার ৮,১৩০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জের ১৩ উপজেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। এ বছর জেলায় চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৬৮৬ টন।
নিজস্ব প্রতিবেদক

