কসবায় হামের টিকাদান কর্মসূচি: সুস্থ ভবিষ্যৎ গড়ার নীরব লড়াই

আকলিমা রশীদ ঢালী:
২৪১ কেন্দ্রে চলছে টিকাদান কার্যক্রম, লক্ষ্যমাত্রা ৫৬ হাজারের বেশি শিশু।
নীরব কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ চলছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায়। হামের মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের সুরক্ষায় কাজ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এ উদ্যোগ শুধু একটি স্বাস্থ্যসেবা নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিরাপদ রাখার এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা।

উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৩০টি ওয়ার্ডে স্থাপিত ২৪০টি অস্থায়ী কেন্দ্র ও একটি স্থায়ী কেন্দ্রসহ মোট ২৪১টি কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় ৫৬ হাজার ৪৮৯ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে গত ২০ এপ্রিল থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ১৩ হাজার ৪৭০ জন শিশুকে হামের টিকা প্রদান করা হয়েছে, যা কর্মসূচির অগ্রগতির একটি ইতিবাচক দিক নির্দেশ করে।
প্রতিটি টিকাকেন্দ্রে একজন স্বাস্থ্য সহকারী, দুইজন প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক এবং একজন সুপারভাইজার নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। মোট ১২০ জন জনবল এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যন্ত গ্রামেও গিয়ে শিশুদের টিকা নিশ্চিত করতে দেখা গেছে তাদের।

স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই সচেতনভাবে সন্তানদের টিকাকেন্দ্রে নিয়ে আসছেন। তবে এখনও কিছু এলাকায় সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে, যা কর্মসূচির জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, “৬ মাস থেকে ৫ বছরের নিচে সকল শিশুকে এই টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। আগামী ১০ মে ২০২৬ পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে। আমরা চাই, একটি শিশুও যেন বাদ না পড়ে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ, যা শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। সময়মতো টিকা প্রদানই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
এই টিকাদান কর্মসূচি শুধু একটি স্বাস্থ্য উদ্যোগ নয়, বরং একটি সামাজিক আন্দোলন। অভিভাবকদের সচেতনতা, স্বাস্থ্যকর্মীদের নিষ্ঠা এবং প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় কসবা উপজেলায় গড়ে উঠছে একটি সুস্থ ও নিরাপদ আগামী।
লেখক: ডিগ্রী অধ্যায়নরত শিক্ষার্থী,চ্যানেল ২৬ প্রতিনিধি,বিশেষ প্রতিবেদক অপরাধ পত্র,নিউজ প্রেজেন্টার কসবা টিভি।
নিজস্ব প্রতিবেদক

