খাল বাঁচলে বাঁচবে জনপদ: কসবা-আখাউড়ার খাল খননে স্বচ্ছতা ও গণমাধ্যমের দায়িত্ব

ছবি-ফাইল ও সংগৃহীত
খ.ম.হারুনুর রশীদ ঢালী:
প্রিয় পাঠক,
আজকের বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা কথা বলছি এমন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে, যা শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়—বরং কৃষি, পরিবেশ, নৌ-যোগাযোগ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির অস্তিত্বের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। সেটি হলো খাল পুনঃখনন প্রকল্প।
রোববার (১০ মে) বিকালে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী সদর আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেছেন, খাল খনন প্রকল্প সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক উন্নয়ন কর্মসূচির একটি এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এর স্মৃতিবিজড়িত একটি উদ্যোগ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, এই প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না এবং কড়ায়-গণ্ডায় হিসাব নেওয়া হবে।


ছবি-ফাইল
প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্য নিঃসন্দেহে আশার আলো জাগায়। কারণ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়া উপজেলাও আজ খাল দখল, অবৈধ ভরাট, নাব্যতা সংকট এবং অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে জলাবদ্ধতা ও কৃষি সংকটের মুখোমুখি। এক সময় যে খালগুলো ছিল কৃষকের প্রাণ, এখন তার অনেকগুলোই অস্তিত্ব সংকটে।
বর্ষা এলেই কোথাও জলাবদ্ধতা, আবার শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে কৃষকের হাহাকার—এই বাস্তবতা থেকে উত্তরণের অন্যতম পথ হতে পারে কার্যকর ও স্বচ্ছ খাল পুনঃখনন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে কতটা স্বচ্ছতা নিশ্চিত হচ্ছে? খননের গভীরতা ঠিক আছে কি না, সরকারি অর্থ যথাযথ কাজে ব্যয় হচ্ছে কি না, স্থানীয় জনগণ তার সুফল পাচ্ছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে প্রয়োজন মাঠভিত্তিক অনুসন্ধান।
এখানেই গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় সাংবাদিক ও মিডিয়াকর্মীরা যদি সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করে বাস্তব চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরেন, তাহলে উন্নয়ন প্রকল্পে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি, অনিয়ম কিংবা তথাকথিত “৫২/৫৩-এর খেলা” বন্ধে কার্যকর নজরদারি গড়ে উঠবে।
আমরা মনে করি, কসবা-আখাউড়ার খাল খনন প্রকল্প শুধু সরকারি কাজ নয়; এটি জনস্বার্থের একটি আন্দোলন। তাই স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, পানি উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবং গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
বিশেষ করে, যদি খাল খননকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কোনো মনিটরিং বা বাস্তবায়ন কমিটি গঠিত হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানে সাহেবের কাছে আমাদের বিনীত আহ্বান থাকবে—উক্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হোক। একই সঙ্গে বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না, কাজের গুণগত মান বজায় থাকছে কি না এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে সরকারকে যথাযথভাবে অবহিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হোক।
কারণ উন্নয়ন তখনই টেকসই হয়, যখন সেখানে থাকে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের অংশগ্রহণ। খাল বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, পরিবেশ বাঁচবে, গ্রামীণ জনপদের অর্থনীতি বাঁচবে। আর উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে জনগণের আস্থাও ফিরে আসবে। তাই সময়ের দাবি—খাল খনন হোক পরিকল্পিত, বাস্তবায়ন হোক স্বচ্ছ, আর নজরদারিতে থাকুক জনগণ ও গণমাধ্যম।
লেখক: সভাপতি,কসবা উপজেলা প্রেসক্লাব, সম্পাদক প্রকাশক অপরাধ পত্র ও কসবা টিভি,মোহনা টিভি ও দৈনিক ভোরের কাগজ কসবা প্রতিনিধি।
নিজস্ব প্রতিবেদক

