সীমান্তে গণজাগরণই পারে মাদক ও অপরাধের লাগাম টানতে

ছবি-সংগৃহীত
সত্যবাক :
প্রিয় পাঠক এই যুদ্ধটি দীর্ঘ দিন থেকে করে আসছি। তাতে আমার পক্ষে আবার কেউ বিপক্ষে মন্তব্য করেন।পক্ষে বিপক্ষে মন্তব্য না করলে সঠিক কথা খুঁজে বের করা সম্ভব নয়। বাংলা প্রবাদে আছে “পাগলে সুখ মনে মনে” জেনেও আমার রাস্তা ধরে আমি আগানোর চেষ্টা করছি। সীমান্তে খারাপ লোকের চেয়ে ভালো লোকের সংখ্যা অনেক বেশি।এখনই সময় চলুন আমরা মাদক সেবন ও পাচারে প্রতিরোধে সীমান্ত স্ব স্ব এলাকাবাসী জাগরণ সৃষ্টি করি।তা হলে সফলতার আলোর মুখ দেখব আল্লাহ পাকের অশেষ রহমতে।এখন আসল বিষয়ে আসি।

দেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো দিন দিন মাদক ও নানা অপরাধের ঝুঁকিপূর্ণ জোনে পরিণত হচ্ছে। ভৌগোলিক অবস্থান, নজরদারির সীমাবদ্ধতা এবং সংঘবদ্ধ চক্রের তৎপরতায় এসব এলাকায় মাদক পাচার ও সেবনের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ফলে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একক প্রচেষ্টায় এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক ও অপরাধ প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাদক কারবারিরা সীমান্ত এলাকাকে নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। নানা কৌশলে তারা স্থানীয় কিছু অসাধু যুবক,অপরিচিত ব্যক্তি ও স্থানীয় কিছু ব্যক্তিকে কাজে লাগিয়ে মাদক পরিবহন ও বিপণন চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে তরুণ সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ সহজেই মাদকের নাগাল পাচ্ছে, যা সামাজিক অবক্ষয়ের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। সীমান্তবাসী যদি সচেতন হয়ে ওঠে এবং মাদকবিরোধী গণজাগরণ সৃষ্টি করে, তাহলে অপরাধীদের জন্য এই অঞ্চল আর নিরাপদ থাকবে না। তারা বলেন, প্রতিটি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় সংগঠন এবং সামাজিক সংগঠনকে একযোগে কাজ করতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও বলছেন, জনগণের সহযোগিতা ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। সন্দেহজনক কার্যক্রম সম্পর্কে দ্রুত তথ্য প্রদান, স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি বৃদ্ধি এবং যুবসমাজকে সচেতন করার মাধ্যমে অনেকাংশে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করেন, মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে হলে বিকল্প কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে। সীমান্ত অঞ্চলের তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা গেলে তারা সহজেই মাদকের ভয়াল থাবা থেকে দূরে থাকতে পারবে।

সবশেষে বলা যায়, মাদক ও অপরাধ প্রতিরোধে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগই হতে পারে কার্যকর সমাধান। সীমান্তবাসীর সম্মিলিত জাগরণই পারে একটি নিরাপদ, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

